আসুন  নিয়মিত খেজুর খাই সুস্থ্য থাকি 

খেজুরের ঔষধী গুনাগুণঃ

হজরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,  খেজুর রোগ নিরাময়কারী এবং প্রতিরধক।

                                                             খেজুরের পরিচিতি

খেজুর আমাদের সবার অতি পরিচিত একটি ফল। আর খেজুর জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ফল। খেজুরকে সাধারণত বলা হয় রাজকীয় ফল। শুধু এর অতুলনীয় স্বাদ আর গন্ধের জন্য নয় বরং খেঁজুরের খ্যাতি তার অসাধারণ রোগ নিরাময়ের জন্য।  সামনে পবিত্র রমজান মাস আর রমজানে খেজুর দিয়ে ইফতার করা, মুমিন মুসলিমদের জন্য আল্লাহর বিশেষ একটা নিয়ামত। আপনার সারা দিনের ক্লান্তি দুর করতে একটি খেজুর আপনার জন্য যথেষ্ট। সারাদিন রোজা রাখার পর আমরা সাধারণত খেজুর খেয়ে ইফতার শুরু করি। মুমিন-মুসলিমদের জন্য খেজুর খেয়ে ইফতার করা সুন্নত। তাই সাধারণত রমজানে খেজুরের দাম ও কদর একটু বেশি বেড়ে যায়। খেজুর না থাকলে আমাদের ইফতার যেন অপূর্ণতা থেকে যায়। তামার বা খেজুর শব্দটি আল কোরআন ও রাসূলের বাণীতে অনেক বার এসেছে।
 আমাদের পবিত্র হাদীছ শরীফ  মাঝেও খেজুরের অনেক অনেক গুণাবলী ও পুস্তিগুনের কথা বর্ণনা করা আছে।আমরা সকলেই জানি খেজুর খাওয়া সুন্নত মুবারক। তারপরও বর্তমান সময়ের বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে খেজুর নিয়ে অনেক গবেষণা করে খেজুরের গুনাগুন সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। গবেষণাই তারা বলেছেন, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খেজুর অসাধারণ ঔষধি গুনে পরিপূর্ণ একটা ফল। সারা বছর খেজুর খাওয়া আপনার স্বাস্থের পক্ষে খুবই উপকারী ফল।

খেজুরের পুষ্টি:

 সাধারণত প্রতি ১০০ গ্রাম পরিস্কার ও তাজা খেজুর ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে যা থেকে ২৩০ ক্যালরী শক্তি উৎপাদন করে, ৭৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৫ গ্রাম প্রোটিন এবং ০.৪ গ্রাম ফ্যাট। গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ছাড়াও মেলে অত্যাবশ্যক ভিটামিন উপাদান। খেজুরে স্বল্প পরিমাণে পানি থাকে যা কিনা শুকানো অবস্থায় তেমন প্রভাব ফেলে না।সাধারণত পাকা খেজুরে প্রায় ৮০শতাংশ চিনিজাতীয় উপাদান রয়েছে। 

এছাড়াও, খেজুরের ফুলও খাবার উপযোগী। সনাতনী ধাঁচে স্ত্রী ফুল সাধারণত ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনে বিক্রয় করা হয়।আর সাধারণত কচি খেজুর পাতা সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়।

খেজুরের উৎপত্তি স্থানঃ

পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে চারশ’ জাতেরও বেশি খেজুর পাওয়া যায়। সাধারণত তুরস্ক, ইরাক এবং উত্তর আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চল মরক্কোয় খেজুরের উৎপত্তি প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে। পবিত্র বাইবেলে খেজুরের কথা  অধিক জায়গায় উল্লেখ রয়েছে। ইসলামী দেশগুলোতে পবিত্র রমজান মাসে ইফতারীতে খেজুরের আইটেম রাখা হয়। শুধু তুরস্ক বা ইরাকে নয় মেদজুল এবং দেগলেত নূরজাতীয় খেজুরের চাষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া,  এবং দক্ষিণ ফ্লোরিডায় এখন খেজুরের চাষ করা হয়ে থাকে।


খেজুরের খাদ্য ও পুষ্টি উপকারিতাঃ

১) মস্তিষ্ক সচল রাখেঃ আমাদের ক্লান্ত শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তির যোগান দিতে সক্ষম এই খেজুর। খেজুরের সব থেকে একটা সুবিধা হল খেজুর মস্তিষ্ককে প্রাণবন্ত রাখে।

২) গ্লুকোজের অভাব রোধেঃ সাধারণত রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর পেট খালি থাকে বলে শরীরে গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।  সেটা দ্রুত পূরণ করতে সাহায্য করে খেজুর।

৩) কোষ্ঠকাঠিন্যঃ তুলনামূলকভাবে যেসব খেজুর একটু শক্ত সেইসব খেজুরকে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে  সেই পানি খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো হয়।

৪) গর্ভবতী মায়ের জন্যঃ সাধারণত এই সময়টা গর্ভবতী মায়েদের শরীরে অনেক দুর্বলতা কাজ করে।সাধারণত যেসব মায়েরা গর্ভবতী বা ৭/৮ মাস সময় থেকে গর্ভবতী মায়েদের জন্য খেজুর একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য।  তখন খেজুর মায়েদের শরীরের এই দুর্বলতা সারাতে অনেক সাহায্য করে থাকে এবং ডেলিভারীর পর মায়েদের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করতে ও খেজুর সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং বাচ্চা প্রসবের পরবর্তী সময়ে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে খেজুর কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৫) খেজুরিএকটি সক্তিদায়ক খাবার : কারন খেজুর নিয়মিত খেলে আপনার শরীর ও মন দুটাই ভাল থাকবে।খেজুরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালরি থাকে বিধায় যারা একটু দূর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী, সামান্য পরিশ্রমে হয়রান হয়ে যায় তাদের জন্য খেজুর নিয়মিত একটা খাবার হিসাবে রাখা উচিত।

৬) ক্যান্সার রোধেঃ ক্যান্সার রোধেও এই ফল বেশ কার্যকরী।আমাদের পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে খেজুর। 

৭) হার্টের সমস্যা রোধেঃ যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য খেজুর খুবই উপকারী। কেননা খেজুর দুর্বল হার্টকে মজবুত করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে হার্টের সমস্যায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি কিছু দিনের মধ্যে ভালো উপোকার পাবেন।

৮) বদহজমঃ খেজুর খেলে আমাদের বদহজম অনেকাংশে দূর হয়। হৃদরোগ কমাতেও খেজুর বেশ কার্যকরী।

৯) দুর্বলাত দুরকরতে: আমাদের দেহ ও মনকে সচল ও কার্যক্ষম রাখতে শক্তির প্রয়োজন। এর অভাবে আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়,শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আমাদের মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে শর্করা জাতীয় খাদ্য শক্তির উৎস হিসেবে বিশেষ কাজ করে।আর এই খেজুর শর্করা জাতীয় খাদ্য হিসেবে খাদ্য শক্তির উল্লেখযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।

১০) শরীরের বিভিন্ন রোগ রোধেঃ খেজুর সাধারণত জ্বর, মূত্রথলির ইনফেকশন, যৌনরোগ, গনোরিয়া, কণ্ঠনালির ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী।

১১) অঙ্গক্ষয় প্রতিরোধেঃ সাধারণত যারা নেশাগ্রস্ত তাদের অঙ্গক্ষয় প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে খেজুর। আপনার স্বাস্থ্য ভালো করতে চাইলে বাড়িতে তৈরী ঘিয়ে ভাজা খেজুর ভাতের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে করে আপনার মুখের রুচি দিগুণ বৃদ্ধি পাবে। খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে।১২) প্রয়োজনীয় উপাদানঃ খেজুরের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিমাণে তেল, ক্যালসিয়াম, সালফার, আইরন, পটাসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার এবং ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান যা সুস্বাস্থের জন্য অতি দরকারি।

১৩) হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতেঃ খেজর আমাদের  হৃদপিন্ডেকে  সুস্থ  এবং সতেজ রাখে  এমন শক্তিদায়ক বা বলবর্ধক ঔষধ হিসেবে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার।

খেজুরের ঔষধি গুনাবলী

২) রক্তপিত্তে: সাধারণত এ অবস্থায় মাঝে মাঝে গালা দিয়ে প্রচুর রক্ত পড়ে একবার রক্ত দেখা দিলে আবার ৩-৪ মাস দেখা যায় না। আবার একটা সময় গলা সুড়সুড় করে সাসির সাথে একটু একটু রক্ত দেখা দেয়। এক্ষেত্রে খেজুরের ঔষধি গুনাবলীর ব্যবহার মতে ১৫-২০ গ্রাম পিন্ড খেজুর ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ২-৩ ঘন্টা পরে চটকে ছেঁকে যে রসালো পানি পাওয়া যাবে তা খাওয়াতে হবে। এতে বেশ উপকার পাওয়া যাবে।

৩) শুক্র বৃদ্ধি বা ক্ষয়ে:  যাদের রৌদ্র একেবারে সহ্য হয় না এবং স্ত্রী সহবাসে দুর্বলতা আছে এবং সেই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্যও আছে তারা যদি নিয়মিত ১৫-২০ গ্রাম খেজুর আধা লিটার পানি এবং এক কাপ দুধ মিশিয়ে এক সাথে ভাল করে সিদ্ধ করে এক কাপ  মতো করে পান করতে পারেন  উপকার পাওয়া যাবে।

৪) খুসখুসে কাশি হলে: সাধারণত যাদের খুসখুসে কাসি হয় তারা যদি এটাকে উপেক্ষা করে এক্ষেত্রে আপনি একটা কাজ করতে পারেন ২০-২৫ গ্রাম পিন্ড খেজুর, ২ কাপ গরম পানিতে সাড়া রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে ওই খেজুর চেটকিযে রসালো সরবতের মতো করে খেতে হবে। এই ভাবে আপনাকে অন্ততঃ ১৫ দিন খেলে খুসখুসে কাশিতে আরাম হবে।

পরিশেষঃ

অন্য যে কোনো ফলের চেয়ে খেজুরের পুষ্টিগুণ আনেক বেশি। এটা আল্লাহ্‌র বিশেষ একটা দয়া আমাদের জন্য। তাইতো বলা হয়ে থাকে বছরে যতোগুলো দিন আছে, খেজুরে তার চেয়েও বেশি গুন রয়েছে। আপনি শুধু রমজান মাসের জন্য নয় সারা বছর পরিবারের সবার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই ফলটিকে রাখতে পারেন। এতে করে আপনার শরীর ও মন দুটাই সুস্থ থাকবে। খেজুরের বিচিও রোগ নিরাময়ে বিশেষ কাজ করে। খেজুরবিচিচূর্ণ মাজন হিসেবে ব্যবহার করলে দাঁত সাধারণত পরিষ্কার হয়। তাছাড়া খেজুর ফুলের পরাগরেণু পুরুষের বন্ধ্যাত্ব দূর করে শুক্রাণু বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।সর্বশেষে বলা যায় খেজুরের গুনা গুন  বলে শেষ করা যাবে না । 

     ধন্যবাদ সাইকে